কলমাকান্দায় ইউপি চেয়ারম্যানকে বরখাস্তের পর এবার সেই ইউএনওকে বদলি
স্টাফ রিপোর্টার;
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বাগ্বিতণ্ডার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।’
গতকাল মঙ্গলবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মাসুদুর রহমানকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় পদায়ন করা হয়েছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে মাসুদুর রহমানকে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে। তবে বদলির আদেশে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।’
এর আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানো লেঙ্গুরা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানকে গত রোববার সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার বিভাগের এক চিঠিতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।’
গত শনিবার লেঙ্গুরা বাজারে সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ইউএনও মাসুদুর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান। ওই অভিযানে ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়ার ছোট ভাই পারভেজ ভূঁইয়া ও বকুল মিয়া নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদালতের কার্যক্রম চলাকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সাইদুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি উপস্থিত জনতার সামনেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। জানতে চান, ‘কী করছেন এইটা? বলেন আমাকে? তখন ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, আমি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে এখানে দাঁড়িয়ে আছি। মোবাইল কোর্ট আগে শেষ হোক। জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, স্বাক্ষর করার আগে আমাকে বলেন। আমার ইউনিয়ন এটা। আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। আপনি মোবাইল কোর্ট করবেন, আমাকে আগে বলতে হবে।’ ‘কে বলেছে এটা? কোন আইনে আছে, ম্যাজিস্ট্রেটের এমন প্রশ্নে সাইদুর বলেন, চেয়ারম্যানের আইনে আছে।’
ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে আদালত অবমাননার অভিযোগে স্থানীয় সরকার বিভাগ ইউপি চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করে এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রেজাউল করিমকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বদলির আদেশের পর মাসুদুর রহমান গতকাল দিবাগত রাত একটার দিকে তাঁর ‘ইউএনও কলমাকান্দা’ আইডি থেকে একটি পোস্ট দিয়ে কলমাকান্দাবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। সব সময় ন্যায়ের পথে থাকার প্রত্যয় জানান।’
আজ বুধবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে মাসুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আমি সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারি না। কর্তৃপক্ষ যা ভালো মনে করেছেন, তাই করেছেন। এখন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি মিটিংয়ে যোগ দিতে যাচ্ছি। হয়তো আজকেই নতুন কর্মস্থলের উদ্দেশে চলে যেতে হবে।’

