শ্রমিক ছাড়াই চলছে কাবিখা ঃ ভেস্তে গেছে দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান
গাইবান্ধা প্রতিনিধি;
আইন শুধু খাতা কলমে সীমাবদ্ধ, নেই তার যথাযথ প্রয়োগ। ফলে অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের নামে গাইবান্ধার সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্প কাজ বাস্তবায়নে চলছে অনিয়ম। প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে এলাকাবাসীর।
জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির নিয়মাবলী মূলত ‘গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা-কাবিটা) কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা ২০২১ (সংশোধনীসহ)’ অনুসরণ করে পরিচালিত হবে, যেখানে নগদ অর্থ ও খাদ্যশস্য (চাল/গম) দিয়ে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ (যেমন- রাস্তাঘাট, স্লুইসগেট, স্কুল/মাদ্রাসার মেরামত) বাস্তবায়িত হয়; প্রকল্প গ্রহণ, বাস্তবায়ন, অর্থ ও খাদ্যশস্যের হিসাবরক্ষণ, এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিতকরণে সরকারি বিধি-বিধান মানা বাধ্যতামূলক, যার লক্ষ্য গ্রামীণ উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এ লক্ষ্যে দরিদ্র শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করার কথা।
কিন্তু এর ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের লেংগাবাজার আইডিয়াল কলেজ চত্বরে মাটি ভরাট কাজে। কাজটি বাস্তবায়নে সাড়ে ১০টন খাদ্য শস্য বরাদ্দ দেয়া হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হচ্ছেন ওই প্রতিষ্ঠানের অধক্ষ মিজানুর রহমান। প্রকল্প স্থানে নেই প্রকল্পের তথ্য সম্বলিত সাইন বোর্ড। স্থানীয়রা জনেন না প্রকল্পের নাম, বরাদ্দের পরিমাণ এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির নাম। জনগণকে তথ্য পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে শ্রমিকের পরিবর্তে মাটি ভরাট কাজ করা হচ্ছে কাঁকড়া (ট্রাক্টর) দিয়ে।
এতে করে ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ যে লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্প নেওয়া হয়, বাস্তবে এখানে নেই তার প্রতিফলন। শ্রমিকের পরিবর্তে কাঁকড়া (ট্রাক্টর) দিয়ে মাট ভরাট কাজ করায় প্রকল্পের খাদ্যশস্য যাচ্ছে কাঁকড়া (ট্রাক্টর) এর পেটে যা দুর্নীতি ও অনিয়মেরই ইঙ্গিত দেয়, এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে এলাকায় আমন ধান কাটা মাড়াই শেষ হয়েছে। এ সময় কাজ না থাকায় বেকার বসে থেকে অর্থাভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তদারকি না থাকায় মাটি ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মাটি কিনে তা কাঁকড়া (ট্রাক্টর) দিয়ে বহন করে মাঠ ভরাট কাজ করা হচ্ছে।
এতে করে আমরা প্রকল্প কাজের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। কাবিখা প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল দরিদ্রদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, কিন্তু কাঁকড়া (ট্রাক্টর) দিয়ে মাটি বহন করায় সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে।
প্রকল্প কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান জানান, আমি নাম মাত্র সভাপতি। প্রকল্পের কাজের বিষয়ে কিছুই জানি না।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রিয়াজুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে মাটি কাটার কাজ করা যাবে।
প্রকল্পটির অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাইলাতুল হোসেন জানান, এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।

